শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ঢাকার অনুরোধকে কেন গুরুত্ব দিচ্ছে না ভারত?

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ঢাকার অনুরোধকে কেন গুরুত্ব দিচ্ছে না ভারত?

বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ করেছে, যা ভারত সরকারের মনোভাবের সঙ্গে মেলে না। ২৩শে ডিসেম্বর ২০২৪, দিল্লির সাউথ ব্লকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি নোট ভার্বালের মাধ্যমে এই বার্তা পাঠানো হয়, যা দিয়ে বাংলাদেশের দাবি হলো, শেখ হাসিনাকে ‘গণহত্যা’র অভিযোগে বিচারের জন্য ফেরত আনা। তবে ভারত এই অনুরোধকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, এবং এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।


ভারত সরকারের মতে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো নোট ভার্বালে কোনো ধরনের নির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, যদি বাংলাদেশ এই বিষয়টি সিরিয়াসলি নেয়, তাহলে তাদের অবশ্যই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করা উচিত ছিল। শুধুমাত্র একটি নোটে অভিযোগ জানানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই হতে পারে, যা তাদের কাছে যথেষ্ট নয়।


ভারতের বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সরকার আসলে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের কাছে দেখাতে চাচ্ছে যে তারা ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে, আর এখন ভারতের কাছে দায়িত্ব রয়েছে। তারা এটিকে একটি 'দায়সারা পদক্ষেপ' হিসেবে দেখছেন, যেখানে বাংলাদেশ নিজেদের দায় শেষ করেছে।


ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, তবে এই চুক্তির মধ্যে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে কোনো রাজনৈতিক অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়া যাবে না। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা রাজনৈতিক বলে ভারত মনে করছে, যা আইনগতভাবে প্রত্যর্পণের যোগ্য নয়। অতএব, ভারত এই দাবি গুরুত্ব সহকারে নেবে না।


ভারতের সাবেক কূটনীতিবিদরা মনে করছেন, বাংলাদেশের উচিত ছিল আন্তর্জাতিক আদালত বা তার নিজস্ব বিচার বিভাগের মাধ্যমে 'লেটার রোগেটরি' পাঠানো, যাতে একটি আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সেই ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার ফলে ভারত সরকারের মনোভাব অনেকটাই শীতল।


ভারত সরকার শেখ হাসিনার ভারতে আসার পেছনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ৫ আগস্ট ২০২৪, শেখ হাসিনা ভারত আসার আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে। ভারত মনে করছে, সেনাবাহিনীর সাহায্য ছাড়া শেখ হাসিনা ভারতে আসতে পারতেন না, এবং সেই অবস্থান এখন বাংলাদেশের জন্য একটি রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করছে।


এই সব কারণে, ভারত সরকারের কর্মকর্তারা মনে করছেন যে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তারা বার্তা প্রাপ্তির পর সেটি গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করবে, তবে এর কোনো তাড়াহুড়ো নেই। ভারতের যুক্তি হলো, এই দাবির পেছনে যথেষ্ট আইনি বা রাজনৈতিক ভিত্তি নেই, এবং পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে।


ভারত সরকারের অবস্থান পরিষ্কার—শুধুমাত্র রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হলে তারা তাতে কোনো তাড়াহুড়ো করবে না। তারা বিশ্বাস করে যে, কোনো আন্তর্জাতিক আদালত বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই এই ধরনের দাবি কার্যকর হতে পারে না। তাই বাংলাদেশ সরকারের উচিত, আরো শক্তিশালী আইনি প্রক্রিয়া ও প্রমাণসহ এই দাবি তোলা, যা ভারত সরকারকে বাধ্য করতে পারে তাদের সিদ্ধান্ত পুনঃমূল্যায়ন করতে।

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ঢাকার অনুরোধকে কেন গুরুত্ব দিচ্ছে না ভারত?

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ঢাকার অনুরোধকে কেন গুরুত্ব দিচ্ছে না ভারত?

Share this article:

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ খবর