কোটাব্যবস্থা ও ক্যাডারভিত্তিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের আন্দোলন: সঠিক নীতি বা বিভ্রান্তি?

কোটাব্যবস্থা ও ক্যাডারভিত্তিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের আন্দোলন: সঠিক নীতি বা বিভ্রান্তি?

বাংলাদেশের জনপ্রশাসনে সম্প্রতি গঠিত সংস্কার কমিশনের সুপারিশে একটি নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই সুপারিশে উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা এবং অন্যান্য ক্যাডারের জন্য বাকি ৫০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, কমিশন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিস থেকে আলাদা করার সুপারিশও করেছে। এর ফলস্বরূপ, আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ এবং তার অন্তর্ভুক্ত ২৫টি ক্যাডারের সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, এবং তারা এখন এই সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে।


সাংগঠনিক স্তরে ও জনগণের মধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছে কমিশনের সুপারিশ। বক্তারা দাবি করেছেন, এই ব্যবস্থা প্রশাসন ক্যাডারের আধিপত্যকে আরও শক্তিশালী করবে এবং অন্য ক্যাডারগুলোর জন্য বৈষম্য তৈরি করবে। ২৫টি ক্যাডারের সদস্যরা মনে করছেন যে, একটি নির্দিষ্ট ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা রাখা তাদের পেশাগত মর্যাদা ও সুযোগের প্রতি অবিচার। তারা জানান, সবার জন্য সমান সুযোগ ও কোটামুক্ত উপসচিব পুল প্রয়োজন, যা মেধাবীদের নির্বাচন করবে এবং দেশের প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে।


প্রধানত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিস থেকে আলাদা করার সিদ্ধান্তটি আরও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও স্বার্থের জন্য আরও ঝুঁকির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন নেতারা। তারা বিশ্বাস করেন, এমন বিভাজন সিভিল সার্ভিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং প্রশাসনিক দক্ষতার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।


সংগঠনটি এখন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে। তাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী সোমবার থেকে বিবৃতি প্রদান, মঙ্গলবার এক ঘণ্টা কলমবিরতি, ২৬ ডিসেম্বর মানববন্ধন, এবং ৪ জানুয়ারি ঢাকায় সমাবেশ আয়োজন। তাদের দাবি, প্রশাসনে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয় এবং সিভিল সার্ভিসের কার্যকরী ও দক্ষতাবোধক সংস্কারের জন্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।


তবে, এসব বিতর্কের মধ্যে একটাই প্রশ্ন উঠে এসেছে—এই সংস্কারগুলি আদৌ সঠিক সিদ্ধান্ত কিনা? যেখানে ২৫টি ক্যাডারের সদস্যরা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পদায়ন ও কোটামুক্ত উপসচিব পুল প্রতিষ্ঠার দাবিতে একত্রিত, সেখানে সঠিক সংস্কারের পক্ষে একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণেও ভাবতে হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে আলাদা রাখা কিংবা কোটা নির্ধারণের পরিবর্তে, এটি গুরুত্বপূর্ণ যে সবার জন্য দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হোক, যাতে পেশাদারিত্ব এবং সেবা প্রদান নিশ্চিত করা যায়।


সংস্কারের মাধ্যমে সিভিল সার্ভিসের পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জন করা সম্ভব, তবে তা নির্ভর করবে সঠিক নীতিমালা ও সকল ক্যাডারের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ওপর।

কোটাব্যবস্থা ও ক্যাডারভিত্তিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের আন্দোলন: সঠিক নীতি বা বিভ্রান্তি?

কোটাব্যবস্থা ও ক্যাডারভিত্তিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের আন্দোলন: সঠিক নীতি বা বিভ্রান্তি?

Share this article:

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ খবর