দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি-বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের দুই শরিক—আম আদমি পার্টি (আপ) এবং কংগ্রেসের মধ্যে সম্প্রতি প্রকাশ্যে সংঘাত দেখা দিয়েছে। এতে জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আপ কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ক্ষুব্ধ। মাকেন দিল্লির উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলতে কেজরিওয়ালকে ‘ফর্জিওয়াল’ বলে আক্রমণ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আপ জানায়, কংগ্রেস যদি মাকেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ইন্ডিয়া জোটের অন্য শরিকদের কাছে কংগ্রেসকে জোট থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হবে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, আপ দিল্লির জনলোকপাল প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ এবং বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অপরদিকে, আপের নেতা সঞ্জয় সিং ও মুখ্যমন্ত্রী অতিশী পাল্টা অভিযোগ করেন, কংগ্রেস বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছে।
সঞ্জয় সিং বলেন, “কংগ্রেস বিজেপির নির্দেশে আমাদের নেতাদের আক্রমণ করছে। তারা আসলে বিজেপির হয়ে কাজ করছে।” অতিশী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস প্রার্থীদের নির্বাচনি খরচ বিজেপি যোগাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ইন্ডিয়া জোটের ঐক্যে ফাটল ধরায় তৃণমূল সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তৃণমূলের অভ্যন্তরে কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, মমতা ব্যানার্জী নিজে জোটের নেতৃত্ব নিতে প্রস্তুত বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আপ ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত মূলত নির্বাচনি কৌশলের অংশ। অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেন, “বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।”
সাংবাদিক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্যের মতে, আপ এবং কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত তাদের পুরনো বিরোধেরই বহিঃপ্রকাশ। তবে নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে এই সম্পর্কের স্থায়িত্ব।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়া জোটের ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে আপসহ অন্যান্য শরিকরা কতটা সন্তুষ্ট থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
দিল্লির রাজনীতিতে উত্তেজনা: ইন্ডিয়া জোটে সংঘাত চরমে, নির্বাচন ঘিরে নতুন টানাপোড়েন