সম্প্রতি এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা লণ্ডভণ্ড হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ১৩২ জনে পৌঁছেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত, ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষত উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বাধিক। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা সরকার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই বিপর্যয়ের খবর গুরুত্ব সহকারে প্রচার করছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে।
ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে শ্রীলঙ্কা সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা সামগ্রী এবং উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি পাঠানোর জন্য বিশ্বব্যাপী দেশ ও সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই মানবিক সংকটে আন্তর্জাতিক সমর্থন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমগুলো এ বিষয়ে বিস্তারিত খবর পরিবেশন করছে।
শ্রীলঙ্কার এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলো প্রায়শই ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার হয়। তাই শ্রীলঙ্কার এই সংকট বাংলাদেশের পাঠকদের কাছেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দুর্যোগ মোকাবিলা ও ত্রাণ বিতরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম গতি পেলেও, দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য আরও ব্যাপক সহায়তার প্রয়োজন হবে। এই ভয়াবহতা থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়ানো মানবিকতার দাবি।