বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রাইম ব্যাংক সম্প্রতি দেশের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ডিজিটাল ঋণপত্র ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম 'প্রাইম বাণিজ্য' চালু করেছে। এই উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্মটি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য প্রক্রিয়ায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত রূপান্তরের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য অর্থায়নকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে একীভূত করছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা এখন আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং দক্ষতার সাথে তাদের ঋণপত্র সংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করতে পারবেন, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করবে।
'প্রাইম বাণিজ্য' প্ল্যাটফর্মটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ঋণপত্র প্রক্রিয়াকরণকে সহজ ও নির্ভুল করে তোলে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণপত্র খোলার আবেদন থেকে শুরু করে অনুমোদন, পর্যবেক্ষণ এবং নথিভুক্তকরণ—সবকিছুই ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। এর ফলে হাতে করা প্রক্রিয়াকরণে যে সময় ও শ্রম ব্যয় হতো, তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তিগত সমাধান ব্যবসায়িক লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং ত্রুটির সম্ভাবনা কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি, এটি ব্যবসায়ীদের জন্য সময় সাশ্রয়ী হবে এবং তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
'প্রাইম বাণিজ্য' প্ল্যাটফর্মের চালু হওয়া 'আধুনিক বাংলাদেশ' গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ। এই ধরনের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন দেশের আর্থিক খাতকে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলছে। যুগান্তরের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল প্রাইম ব্যাংকের জন্য নয়, বরং সমগ্র ব্যাংকিং শিল্পের জন্য একটি অনুপ্রেরণা, যা অন্যান্য ব্যাংকগুলোকেও প্রযুক্তিগত সমাধানে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করবে। এর ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য খাত আরও বেশি প্রযুক্তি-নির্ভর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।