বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবন জননিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা প্রকাশিত হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিনটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোতে কার্যক্রম চলছে, যা শত শত শিক্ষার্থীর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এই ধরনের ভবনগুলোতে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প বা কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভবন মালিকদের অনীহা এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার বা ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয় না। এমনকি, একটি সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, যেসব ভবনকে বিপজ্জনক ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোতেও নিয়মিতভাবে মানুষ বসবাস করছে বা কর্মপরিচালনা করছে। এই পরিস্থিতি জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং প্রশ্ন তুলেছে যে, সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার জন্য আর কত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির অপেক্ষা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, ঢাকা একটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা এবং দুর্বল কাঠামোর ভবনগুলো বড় ধরনের ভূমিকম্পের সময় মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের ফলে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে বসবাসকারী বা কর্মরত লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিনিয়ত এক অদৃশ্য আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শুধু ভূমিকম্প নয়, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রেও এই ভবনগুলো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিয়ে নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের মতে, এই সমস্যা সমাধানে একটি সমন্বিত ও কঠোর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা, নিয়মিত ভবন পরিদর্শন করা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণ বা সংস্কারের ব্যবস্থা করা এবং ভবন মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় না বাড়ালে এই গুরুতর সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।