মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি 'তৃতীয় বিশ্বের' দেশগুলো থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই কঠোর অবস্থানের পেছনে ওয়াশিংটনে একজন আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার অভিযোগের ঘটনাটিকে অনুঘটক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপের পক্ষে থাকলেও, এই নতুন ঘোষণা তার পূর্বের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একটি বিশেষ বিমানে আজ সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের আগমন ঘটে। এই প্রত্যাবাসনের ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে, কারণ এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বাস্তব পরিবর্তন আসছে। যুগান্তর পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, এই ধরনের প্রত্যাবাসন ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের উপর একটি নতুন চাপ তৈরি করবে। যারা বিভিন্ন উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন বা অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি দুঃসংবাদ।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিবাসন নীতির কঠোরতা শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্যই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে, তখন অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোকেও একই ধরনের নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করতে পারে। বাংলাদেশের জন্য, এটি একদিকে যেমন কূটনৈতিকভাবে একটি চ্যালেঞ্জ, তেমনি অন্যদিকে দেশের ভেতর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য বৈধ ও নিরাপদ পথগুলো সংকুচিত হওয়ায় মানব পাচারের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ঝুঁকিও থেকে যায়।