বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান বিপিএলের শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন। মাশরাফি তাঁর নেতৃত্বগুণে চারটি শিরোপা এনে দিয়েছেন। আর সাকিব ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে চারবার টুর্নামেন্ট–সেরা হয়েছেন।
তবে এবার তাঁদের খেলার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া একাদশ বিপিএলে এই দুই তারকার অনুপস্থিতি অনেকটাই নিশ্চিত।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁদের বিপিএলে অংশগ্রহণে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাশরাফি ও সাকিব রাজনীতিতে ব্রাত্য হয়ে পড়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা ও নাশকতার মামলাও রয়েছে।
মাশরাফি বর্তমানে দেশে থাকলেও দীর্ঘদিন খেলা ও ফিটনেস ট্রেনিংয়ের বাইরে রয়েছেন। অন্যদিকে সাকিব বোলিং অ্যাকশন সংক্রান্ত সমস্যায় জর্জরিত এবং নিরাপত্তার কারণে দেশে আসাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাকিবের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে জটিলতা
ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ২ ডিসেম্বর লাফবরো ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষায় সাকিবের অ্যাকশনে ত্রুটি ধরা পড়ে। দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের চেন্নাইয়ে তিনি পরীক্ষা দিয়েছেন। রিপোর্ট দু-এক দিনের মধ্যেই পাওয়া যাবে। তবে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার সম্ভাবনাও সাকিবের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।
সাকিব ও মাশরাফির অনুপস্থিতি সত্ত্বেও একাদশ বিপিএলের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। দলগুলো অনুশীলনে নামছে, বিদেশি ক্রিকেটাররাও যোগ দিতে শুরু করেছেন। ফরচুন বরিশাল জানিয়েছে, তাদের আফগান ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী আজ রাতেই ঢাকায় পৌঁছাবেন।
সাকিব ও মাশরাফির উপস্থিতি বিপিএলকে আরও রঙিন করে তুলত। তবে বর্তমান বাস্তবতায় তাঁদের খেলার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোটায়।
মাশরাফি–সাকিব কি খেলবেন বিপিএলে?