বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা: ফিনটেক ও মোবাইল আর্থিক সেবার বিপ্লব

বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা: ফিনটেক ও মোবাইল আর্থিক সেবার বিপ্লব

ফিনটেকের জয়যাত্রা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসার

বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে ফিনটেক এবং মোবাইল আর্থিক সেবা এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ তার আট কোটি বিশ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করেছে। গ্রামে-গঞ্জে, শহর থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে সহজ উপায়ে আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় অসংখ্য মানুষ ব্যাঙ্ক সেবার বাইরে থেকেও আধুনিক আর্থিক সুবিধার আওতাভুক্ত হয়েছেন। দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধরনের মোবাইল আর্থিক সেবা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করছে, যা দৈনন্দিন লেনদেনকে আরও গতিশীল ও নিরাপদ করে তুলেছে।

উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও ই-সেবার বিস্তার

ফিনটেকের পাশাপাশি অন্যান্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তিও বাংলাদেশের সেবাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে। বীমা প্রযুক্তি এখন হাতের মুঠোয় বীমা সুরক্ষা নিয়ে এসেছে। মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়ালেটের মাধ্যমে বীমা পলিসি কেনা ও পরিচালনা করা সম্ভব হওয়ায় তরুণ প্রজন্মসহ সাধারণ মানুষের কাছে বীমা আরও সহজলভ্য হয়েছে। একই সাথে, সরকারি সেবাকে ডিজিটাল করার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। সম্প্রতি, ঢাকা পারিবারিক আদালত-৫ এ ই-পারিবারিক আদালত ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যা ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে চট্টগ্রামেও এই সেবা শুরু হয়েছে। প্রথম আলোর খবর অনুসারে, এই উদ্যোগ বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও সহজ করবে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ডিজিটাল অর্থনীতিতে স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে যারা অবদান রাখছেন, তাদের স্বীকৃতি প্রদানও এই খাতের অগ্রগতিকে উৎসাহিত করছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব উদযাপনের এক দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক অনুষ্ঠানে ডিজিটাল অর্থায়ন, ই-বাণিজ্য, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী অবদানের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠান ও তিন জন ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। যুগান্তরের এক নিবন্ধে এই পুরস্কার বিতরণের খবর প্রকাশিত হয়েছে, যা ডিজিটাল খাতে দেশের অগ্রযাত্রার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই ধরনের স্বীকৃতি উদ্ভাবকদের আরও নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা যোগায়। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, হুয়াওয়ের 'ভবিষ্যতের জন্য বীজ' নামক কর্মসূচির মতো উদ্যোগগুলো বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত ভিত্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে, যা দেশের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা যায়।

Share this article:

সর্বশেষ খবর