সংস্কারের চ্যালেঞ্জ: বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সমাধান

সংস্কারের চ্যালেঞ্জ: বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সমাধান

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, এই সময়ের মধ্যেই সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ ও কমিশনগুলোর কর্মকাণ্ডে এই চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।


সংস্কারের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো


প্রথম এবং প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা। কমিশন রিপোর্ট দেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার যদি সরাসরি বাস্তবায়নে নামে, তা হলে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে। বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর করা কঠিন হবে।


সংস্কার ব্যাপকভাবে হবে নাকি স্বল্প পরিসরে হবে, তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলগুলো বিশেষত বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে, যেখানে কিছু দল নির্বাচনের পরেই বিস্তারিত সংস্কারের কথা বলছে।


নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার কতটা সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারবে তা প্রশ্নবিদ্ধ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা, এবং জনপ্রশাসনের সংস্কার সম্পন্ন করতে অনেক সময় ও রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন।


বর্তমানে ১১টি কমিশন সংস্কারের জন্য কাজ করছে। এর মধ্যে প্রথম ছয়টি কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এবং বাকিগুলোর ফেব্রুয়ারির মধ্যে। সংবিধান সংস্কার, জনপ্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, এবং পুলিশের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের সুপারিশ থাকতে পারে।


সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, তাদের রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময়েই জমা দেওয়া হবে। তবে এই রিপোর্টে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সংস্কারের গুরুত্ব অপরিসীম।


অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সীমিত ক্ষমতার কারণে নির্বাচনের আগে বড় ধরনের সংস্কার না করাই ভালো। নির্বাচনের পর নতুন সংসদে এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, দলগুলো একমত না হলে সরকারের পক্ষে সংস্কার সামাল দেওয়া কঠিন হবে।


কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, নির্বাচনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক সংস্কার করা জরুরি। নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, এবং জনপ্রশাসনের মতো খাতে অন্তত কিছু পরিবর্তন করা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। রাজনীতি বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, "কিছু মৌলিক সংস্কার ছাড়া কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অসম্ভব।"


সরকার একটি পথ নিতে পারে যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে ক্ষমতায় গেলে তারা সংস্কারের বাস্তবায়ন করবে। জনগণের সামনে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে গঠনতন্ত্র এবং নির্বাচনি ইশতেহারে সংস্কারের অঙ্গীকার যুক্ত হতে পারে।


সংস্কার নিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্ট। তবে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং মৌলিক সংস্কারের কিছু ধাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার অগ্রসর হতে পারে। বড় ধরনের সংস্কার নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলে তা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।







সংস্কারের চ্যালেঞ্জ কী?

সংস্কারের চ্যালেঞ্জ কী?

Share this article:

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ খবর