গত ৩২ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশে দফায় দফায় একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরপর তিনবার কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। এই অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট ভীতি এতটাই প্রকট যে, অনেকেই রাতে নির্ঘুম কাটাচ্ছেন এবং দিনের বেলায়ও ভবন ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন। দেশের ইতিহাসে বড় ভূমিকম্পের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই ভবিষ্যতের বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। এই ধারাবাহিক কম্পনগুলো দেশের ভূমিকম্প প্রবণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের আতঙ্কে দেশের বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার খবর অনুযায়ী, ঢাকার তিনটি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়সহ দুটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন স্বস্তি এনেছে, তেমনই ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতেও সহায়ক হয়েছে। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্পের এই ধারাবাহিকতার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশ একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। তাই ভবন নির্মাণে কঠোর নিয়মকানুন অনুসরণ, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি জোরদার এবং সাধারণ মানুষকে ভূমিকম্পকালীন করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মানবজমিন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই কম্পনগুলো প্রাকৃতিক সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে এবং এখনই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে।
ভূমিকম্পের এই সাম্প্রতিক প্রবণতা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এসেছে। ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ভবনগুলো ভূমিকম্পের সময় বড় বিপদের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবন নির্মাণ বিধিমালা মেনে নির্মাণ কাজ নিশ্চিত করা, পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার বা ভেঙে ফেলা এবং ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ করা আবশ্যক। এছাড়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নিয়মিত মহড়ার আয়োজন করা গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। সরকার ও জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এমন দুর্যোগ থেকে দেশকে রক্ষা করতে।