কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও এর বহুমুখী প্রভাব: আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও এর বহুমুখী প্রভাব: আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত

বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত আফ্রিকা মহাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট সেবা সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অগ্রগতি সাধন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মরিয়া। এ ধরনের বিনিয়োগ কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, বরং নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই প্রবণতা কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তরমূলক প্রভাব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে ঢেলে সাজিয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের 'ফিউচার অব জবস ২০২৫' শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে অনেক প্রচলিত কাজের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে এবং একই সাথে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে তথ্য-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ডিজিটাল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মতো দক্ষতাগুলো এখন কর্মক্ষেত্রে অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি-এর মতো শক্তিশালী মডেলগুলোর পাশাপাশি চীনের 'ডিপসিক এআই'-এর মতো নতুন স্টার্টআপগুলোও বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলছে। দ্য ডেইলি স্টার-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে, যেখানে তরুণ প্রজন্মকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবেশগত প্রভাব ও কার্বন ক্রেডিট-এর চাহিদা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের সাথে সাথে এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ ও পরিচালনায় প্রচুর পরিমাণে শক্তি খরচ হয়, যা কার্বন নিঃসরণ বাড়িয়ে তোলে। এই ক্রমবর্ধমান নির্গমন মোকাবিলায় প্রযুক্তি জায়ান্টদের মধ্যে উচ্চ-মানের কার্বন অপসারণ ক্রেডিট-এর চাহিদা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে বাজারে কার্বন ক্রেডিট-এর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো এখন ডিজিটাল উদ্ভাবন, ব্লকচেইন, ইন্টারনেট অব থিংস এবং স্মার্ট তথ্য ব্যবস্থা ব্যবহার করে তাদের পরিবেশগত ও নৈতিক প্রভাব পরিমাপ ও প্রতিবেদন করতে চাইছে। টেকসই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের জন্য এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অপরিহার্য এবং উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি।

Share this article:

সর্বশেষ খবর