টেস্ট ক্রিকেট: মরণদশা থেকে বাঁচানোর উপায় কী?

টেস্ট ক্রিকেট: মরণদশা থেকে বাঁচানোর উপায় কী?

বর্তমান যুগে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটের তুলনায় সঙ্কটময়। খেলার আধুনিক সংস্করণ, বিশেষত টি-টোয়েন্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো দর্শকদের আগ্রহকে আকৃষ্ট করছে, যার কারণে টেস্ট ক্রিকেটের স্থান ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। খেলার বিকাশ ও দর্শক বৃদ্ধির জন্য যে পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনায় বেশ কিছু প্রস্তাব উঠে এসেছে।


ইংল্যান্ডের স্টুয়াট রবার্টসন, যিনি ২০০১ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের বাণিজ্যিক প্রচলন করেছিলেন, তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচানোর জন্য দর্শকদের কাছে এর মূল্য তুলে ধরা জরুরি। রবার্টসনের মতে, ক্রিকেটের দর্শক কমে যাওয়ার প্রধান কারণ, এটি এত দীর্ঘ সময় নেয়। এক্ষেত্রে ছোট দৈর্ঘ্যের সংস্করণগুলোর আগমন কেবলই তাৎক্ষণিক আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে।


অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার টম মুডি এবং বর্তমানে কোচ হিসেবে কাজ করা, বলেছেন যে, একদিকে যেখানে সমাজের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে, সেখানে টেস্টের মতো দীর্ঘ খেলা মানুষের আগ্রহ হারাচ্ছে। তবে তিনি দাবি করেছেন যে, টেস্ট ক্রিকেট এখনও টিকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন প্রয়োজন। মুডি বলেন, “চারপাশে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ছড়াছড়ি থাকলেও, টেস্টের জায়গা এখনো আছে।”


এর সঙ্গে আরও একটি সমস্যা রয়েছে, যা নিয়ে আলোচনায় এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটের আসল চ্যালেঞ্জ তার আর্থিক মডেল। যখন একটি খেলোয়াড় দেখতে পায় যে টি-টোয়েন্টি খেলে অনেক বেশি আয় হচ্ছে, তখন সে কেন টেস্ট ক্রিকেটে মনোযোগ দেবে? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য স্মিথ প্রস্তাব দিয়েছেন যে, টেস্ট ক্রিকেটে আয় বাড়াতে হবে এবং সফরকারী দলের জন্য লাভের একটি অংশ নির্ধারণ করতে হবে।


জেসন হোল্ডার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা অলরাউন্ডারও একই মত পোষণ করেছেন। তিনি বলছেন, “আন্তর্জাতিক উইন্ডো” চালু করা উচিত, যাতে ক্রিকেটের জন্য এক নির্দিষ্ট সময় রাখা যায় এবং বাকি সময় ঘরোয়া ক্রিকেট বা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে মনোনিবেশ করা যায়। হোল্ডার আরও বলছেন, টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য রাজস্ব ভাগাভাগি ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে, যাতে সফরকারী দলও লাভ পায়।


টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ রক্ষায় কিছু মৌলিক পরিবর্তন এসেছে, যেমন চার দিনের টেস্টের প্রবর্তন। তবে, এই প্রক্রিয়া এখনও ততটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মার্ক টেলর এর পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন, এবং উল্লেখ করেছেন যে, বৃহস্পতি থেকে রবিবার পর্যন্ত একটানা চার দিনের টেস্ট আয়োজন করলে দর্শকদের মাঠে আসার সুযোগ বাড়বে।


তবে এসব পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে গেলে, আইসিসির আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করা উচিত। এভাবে, খেলোয়াড়দের জন্য টেস্ট ক্রিকেটকে আকর্ষণীয় এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করে তোলা সম্ভব। দর্শকদের আগ্রহ ফিরিয়ে আনার জন্য কিছু নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।


অবশ্যই, টেস্ট ক্রিকেট বাঁচাতে হলে একাধিক পদক্ষেপ নিতে হবে, এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করা আইসিসির হাতে। সঠিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সম্ভব এই ঐতিহ্যবাহী খেলা আরও দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে।

টেস্ট ক্রিকেট: মরণদশা থেকে বাঁচানোর উপায় কী?

টেস্ট ক্রিকেট: মরণদশা থেকে বাঁচানোর উপায় কী?

Share this article:

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ খবর