জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছে। এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী বছরের ২৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ এই তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে, যা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এই উত্তরণ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের দ্বার উন্মোচন করবে।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশের অর্থনীতিতে মিশ্র চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, একই সময়ে প্রায় বিশ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যা চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। তবে, দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার দেশের অর্থনীতিকে একটি অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল অবস্থানে চিত্রিত করেছে। এই উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য প্রসারে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও কিছু সুবিধা হারানোর চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হবে।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগের সম্মুখীন হবে। শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের মতো কিছু সুবিধা হারানোর সম্ভাবনা থাকলেও, উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সহায়ক হবে। প্রথম আলো পত্রিকার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই উত্তরণ দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ বিকাশ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন গতি আনবে। তবে, এই নতুন প্রেক্ষাপটে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর প্রস্তুতি নিতে হবে।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়, এটি বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এই অর্জন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই উত্তরণের সুফল যাতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করাই হবে আগামী দিনের প্রধান লক্ষ্য। এই পথচলায় দেশীয় শিল্প ও বাণিজ্যের সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।