বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় ঐক্য, নির্বাচন ও সংস্কারের বিষয় নিয়ে একটি দুই দিনের জাতীয় সংলাপ শুরু হয়েছে। এই সংলাপে সরকারের উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সংস্কার কমিশনের সদস্য, শিক্ষার্থী, এবং জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারবর্গও অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, "সংস্কারবিহীন নির্বাচন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারবে না," এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং সংস্কারের কাজ একসাথে চলতে হবে। তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশনের কাজ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা, কিন্তু সংস্কারের জন্য সকল নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।"
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "আমরা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই, কিন্তু তার জন্য ন্যূনতম সংস্কার প্রয়োজন।" তিনি আরও বলেন, "গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চা ছাড়া গড়ে উঠবে না।"
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকারকে সময় দিতে হবে যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয়," এবং তিনি এও বলেন যে, নির্বাচনের আগে জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনে নিহতদের বিচার হতে হবে।
সংলাপে অংশগ্রহণকারী সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, "প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের ভোটাধিকারের নিশ্চয়তা এবং এককেন্দ্রীকরণ প্রতিরোধ করা।" নির্বাচন কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার মনোনয়ন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং বলেন, "রাজনীতি যদি ব্যবসায় রূপান্তরিত হয়, তবে সেটি বন্ধ করতে হবে।"
অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, "গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মানবিক মর্যাদা অর্জনের জন্য কর্মসংস্থান এবং নিরাপত্তার বিষয়েও আলাপ-আলোচনা প্রয়োজন।"
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, "সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব," এবং তিনি উল্লেখ করেন যে, "মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে গ্যাপ থাকলে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে।"
এই সংলাপটি 'ঐক্য কোন পথে?' শীর্ষক একটি বেসরকারি সংস্থা, ফোরাম ফর বাংলাদেশ, আয়োজিত। বক্তারা নির্বাচনী সংস্কার এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো তুলে ধরেন, তবে সকলেরই একমত যে, সংলাপ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতে নিয়ে যেতে হবে।
সংস্কার, নির্বাচন ও জাতীয় ঐক্য: সরকার, বিএনপি ও জামায়াতের মতামত