বাংলাদেশে মানব পাচার একটি গুরুতর সমস্যা, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি অসংখ্য মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ কেড়ে নিচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, মানব পাচার সংক্রান্ত প্রায় ৯৫ শতাংশ মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে যান। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং মানব পাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকার একটি নতুন আইনের খসড়া প্রণয়ন ও অনুমোদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদ 'মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ-২০২৫' এর খসড়া অনুমোদন করেছে। এই নতুন আইন প্রণয়নের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজ করা। বর্তমান আইনের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে নতুন খসড়ায় সেসব বিষয়কে আরও সুসংহত করা হয়েছে, যাতে প্রমাণ সংগ্রহ এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা সহজ হয়। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অধ্যাদেশ মানব পাচার দমন ও প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করবে।
মানব পাচার মামলার উচ্চ খালাসের হার বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা, তদন্তে ত্রুটি এবং সাক্ষীদের সুরক্ষার অভাবের মতো বিষয়গুলোকেই নির্দেশ করে। নতুন অধ্যাদেশটি এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পাচারকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, যা এই ধরনের জঘন্য অপরাধ দমনে সহায়ক হবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৯ জন বাংলাদেশির প্রত্যাবর্তনের ঘটনাও মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের গভীরতা প্রকাশ করে। নতুন আইন এই ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনেও বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সরকারের এই পদক্ষেপ মানব পাচারের শিকার হওয়া মানুষদের জন্য ন্যায়বিচারের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু আইন প্রণয়নই নয়, এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি। মানব পাচার প্রতিরোধে গঠিত সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে এই নতুন আইন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। যুগান্তর পত্রিকার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ হলে পাচারকারীদের মনোবল ভেঙে যাবে এবং দেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ পাচারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এটি দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।