বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। দেশের দুটি স্বনামধন্য স্টার্টআপ, পাঠাও এবং সম্ভব, ২০২৫ সালের জন্য ফোর্বস এশিয়ার '১০০ টু ওয়াচ' তালিকায় নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। এই অর্জন বাংলাদেশের উদীয়মান স্টার্টআপ পরিবেশের জন্য এক বিরাট স্বীকৃতি এবং বৈশ্বিক মঞ্চে দেশের উদ্ভাবনী শক্তির পরিচায়ক। বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের এই তালিকাটি এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে তুলে ধরে, যা তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও বাজারে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা নির্দেশ করে। দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের প্রযুক্তি শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দুটির জন্যই নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের বিষয়।
পাঠাও, বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় যাত্রী পরিবহন ও চাহিদাভিত্তিক সরবরাহ সেবা মাধ্যম, দেশের শহুরে জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এটি শুধু যাত্রী পরিবহনই নয়, খাবার সরবরাহ ও পণ্য পরিষেবার মাধ্যমেও লক্ষ লক্ষ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে। অন্যদিকে, সম্ভব একটি অনলাইন বাণিজ্য মাধ্যম হিসেবে যাত্রা শুরু করে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। তাদের উদ্ভাবনী সমাধানগুলো স্থানীয় বাজারকে আরও গতিশীল করেছে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত হতে সাহায্য করেছে। এই দুটি স্টার্টআপই তাদের পরিষেবা ও ব্যবসায়িক পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা তাদের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অন্যতম কারণ।
ফোর্বসের এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের স্টার্টআপ পরিবেশের জন্য এক নতুন আশার আলো। এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক মানদণ্ডেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম। এই ধরনের অর্জন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং দেশের প্রযুক্তি খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করবে। এটি দেশের অন্যান্য স্টার্টআপগুলোকে নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করতে এবং নিজেদের ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে। দেশের সরকার এবং বেসরকারি খাত যদি এই সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোকে সঠিক সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিতে পারে, তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এই অর্জন দেশের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।