হংকংয়ের একটি ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দিনভর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভানো ও আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারকাজে হিমশিম খেয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা গ্যাস লিক থেকে এর সূত্রপাত হতে পারে। বিবিসি বাংলা ও প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহু মানুষ আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হংকংয়ের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওই বহুতল ভবনটিতে আগুন এতটাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে বাসিন্দারা পালানোর তেমন সুযোগ পাননি। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল পুরো এলাকা, যা উদ্ধারকাজে বড় বাধা সৃষ্টি করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উঁচু ভবন এবং ঘিঞ্জি এলাকায় এর অবস্থান হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে। দ্য ডেইলি স্টার সূত্রে জানা গেছে, অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনদের খোঁজে ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন, যা এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা করেছে। কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে এবং স্বজনদের শনাক্তকরণের প্রক্রিয়াও চলছে।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে হংকং সরকার একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ভবনের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, ভবনটিতে আধুনিক অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্রপাতির অভাব ছিল এবং জরুরি নির্গমন পথগুলোও পর্যাপ্ত ছিল না। স্থানীয় প্রশাসন হতাহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী এই ঘটনাকে 'জাতীয় ট্র্যাজেডি' হিসেবে আখ্যায়িত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বহুতল ভবনের অগ্নি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই ঘটনা ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ এড়াতে অগ্নি-নিরাপত্তা বিধিমালা কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।