বৈশ্বিক ক্ষমতা কাঠামোয় বাংলাদেশের নতুন অবস্থান

বৈশ্বিক ক্ষমতা কাঠামোয় বাংলাদেশের নতুন অবস্থান

বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্রে বৈশ্বিক দক্ষিণের উত্থান

বর্তমান বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব ক্রমশ বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে। একসময় পশ্চিমা দেশগুলোর একক আধিপত্যের ধারণা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। উদীয়মান অর্থনীতি এবং কৌশলগত গুরুত্বের কারণে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে, যা ঐতিহ্যবাহী ক্ষমতা কাঠামোকে পুনর্সংজ্ঞায়িত করছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নিজেদের ভূমিকা ও অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা দেবে।

পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব

এই পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এবং দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে। দেশটি কেবল তার নিজস্ব উন্নয়ন মডেলের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম আলোর একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষমতা বৈশ্বিক দক্ষিণের দিকে স্থানান্তরিত হওয়ায় বাংলাদেশকে তার অবস্থান পুনর্গঠন করতে হচ্ছে। ভারত, চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিগুলোর কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব নতুন মাত্রা পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশকে তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কৌশল এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে বৈশ্বিক দক্ষিণের উত্থানের সুযোগগুলো কাজে লাগানো সম্ভব হয়।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সুযোগ গ্রহণ

বৈশ্বিক ক্ষমতার এই রূপান্তর বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ যেমন এনেছে, তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। একদিকে, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন বাজার তৈরি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, পরাশক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশকে তার অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে, যাতে পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনশীলতাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়াবলি।

ভবিষ্যৎ পথ ও নীতি নির্ধারণ

ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশের একটি সুদূরপ্রসারী ও গতিশীল নীতি গ্রহণ করা অপরিহার্য। পরিবর্তিত বৈশ্বিক ব্যবস্থায় নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি। শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত ও সাংস্কৃতিক কূটনীতিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বৈশ্বিক দক্ষিণের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করতে হবে। দ্য ডেইলি স্টারের এক নিবন্ধে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, বাংলাদেশকে তার নিজস্ব শক্তি ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে একটি ন্যায্য ও সুষম বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা যায়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল নিজের উন্নয়নই নিশ্চিত করবে না, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Share this article:

সর্বশেষ খবর