পাকিস্তানের একটি সীমান্ত পুলিশ সদর দফতরে গতকাল এক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় অন্তত তিনজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। এই আকস্মিক হামলাটি দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা চৌকিতে আঘাত হানে, যা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় সময় সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরক ভর্তি জ্যাকেট পরে সদর দফতরের প্রবেশপথে বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার এবং দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অঙ্গীকার করেছে।
হামলাটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এর প্রভাবে সদর দফতরের আশপাশের ভবনগুলোও কেঁপে ওঠে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিহত তিনজনই পাকিস্তানের আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য ছিলেন, যারা দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত। হামলার পরপরই আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসন হামলার পরপরই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
পাকিস্তানের সীমান্ত পুলিশ সদর দফতরে এই আত্মঘাতী হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ধরনের হামলা উদ্বেগজনক। পাকিস্তান সরকার বারবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। এই হামলার পর বিভিন্ন দেশ থেকে নিন্দা ও শোক বার্তা পাঠানো হয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই হামলা কেবল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য একটি অশনিসংকেত। বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, পাকিস্তান সরকার এই হামলার পেছনের শক্তিকে চিহ্নিত করতে জোর তদন্ত শুরু করেছে এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।