আজ ভোরে একটি বিশেষ ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিমানটি অবতরণ করার পর থেকেই বিমানবন্দরে এক ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফেরত আসা এসব ব্যক্তির বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সাধারণত, এমন ধরনের ফেরত পাঠানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইনের আওতায় ঘটে থাকে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়। এই ঘটনাটি দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে বেশ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে, যেমনটি জানাচ্ছে প্রথম আলো।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। তবে, ধারণা করা হচ্ছে যে, এই ব্যক্তিরা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিতভাবে বসবাস করছিলেন অথবা তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বৈধ কাগজপত্র ছিল না। আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতি অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক যদি অন্য দেশে অবৈধভাবে বসবাস করে, তবে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এই ধরনের ঘটনা অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যারা বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অন্য দেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের আগমনকে ঘিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোর থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি ছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফেরত আসা ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং ফেরত আসা ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করা হবে। বিবিসি বাংলা তাদের প্রতিবেদনে এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশ সরকার সবসময়ই নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের ওপর জোর দিয়ে থাকে। বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশ অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই বাংলাদেশিদের ফেরত আসার ঘটনা আবারও অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি এবং এর পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সরকার এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।