বাংলাদেশে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য সাংবাদিকদের ইস্যুকৃত অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার বলছে, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক এবং শীঘ্রই নতুন কার্ড ইস্যু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, “সাংবাদিকদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সরকার আন্তরিকভাবে দুঃখিত। যে কোনো ইভেন্ট কাভারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সাংবাদিকরা অস্থায়ী অ্যাক্সেস কার্ড পাবেন।”
তথ্য অধিদপ্তর শীঘ্রই নতুন অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যু করার জন্য আবেদন আহ্বান করবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সাত নম্বর ভবনে আগুন লাগার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এছাড়া, পূর্বে অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে অপকর্মের অভিযোগ ওঠায় যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক সংগঠন এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম জানিয়েছে, তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাবে।
মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, “সব কার্ড একসঙ্গে বাতিল করা একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর ফলে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।”
এর আগে তিন দফায় ১৬৭ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়। এই ঘটনাগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশে কেন সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল?